চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বিশ্বের শীর্ষ জ্বালানি তেল রফতানিকারক সৌদি আরামকোর মুনাফা কমেছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। আর্থিক এ ফলাফলে ভূমিকা রেখেছে জ্বালানি তেলের দামের পতন, যার মূল কারণ চাহিদায় দুর্বলতা ও অতিরিক্ত সরবরাহের আশঙ্কা। খবর দ্য ন্যাশনাল।
পুঁজিবাজারে দাখিল করা এক বিবৃতিতে আরামকো গতকাল জানিয়েছে, মার্চে শেষ হওয়া প্রান্তিকে কোম্পানির মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৭৫০ কোটি সৌদি রিয়াল বা ২ হাজার ৬০০ কোটি ডলার, যা ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে ছিল ১০ হাজার ২২০ কোটি রিয়াল।
তবে গত প্রান্তিকে কোম্পানির আয় বেড়েছে ১ শতাংশের কম। জানুয়ারি-মার্চে আরামকো আয় করেছে ৪০ হাজার ৫৬০ কোটি রিয়াল। আরামকো বলছে, ‘গ্যাস, পরিশোধিত ও রাসায়নিক পণ্যের বিক্রি এবং অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাণিজ্য বৃদ্ধির কারণে আয় সামান্য বেড়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও পরিশোধিত-রাসায়নিক পণ্যের দাম কমে যাওয়ায় এ প্রবৃদ্ধি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং বাণিজ্যযুদ্ধ সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে বর্তমানে বাজার অস্থির অবস্থায় রয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জ্বালানি চাহিদাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এর সঙ্গে ওপেক+ জোটের সরবরাহ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জ্বালানি খাতে আরো চাপ তৈরি করেছে।
আরামকোর প্রেসিডেন্ট ও সিইও আমিন নাসের বলেন, ‘২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে জ্বালানি বাজারকে প্রভাবিত করেছে বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি। ফলে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে।’
তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে এমন সংকটপূর্ণ সময়ে সুশৃঙ্খল মূলধন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের গুরুত্ব আরো স্পষ্ট হয়।
ওপেক+ জুনে দৈনিক ৪ লাখ ১১ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত জ্বালানি তেল সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে, যা পণ্যটির দামের ওপর আরো চাপ সৃষ্টি করতে পারে। চলতি মাসেও একই পরিমাণ উৎপাদন বাড়িয়েছে তারা।
আরামকো জানিয়েছে, প্রথম প্রান্তিকে ২ হাজার ১১০ কোটি ডলারের ভিত্তিমূল্যের লভ্যাংশ বিতরণ করবে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।
আরামকোর সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার সৌদি সরকার। কোম্পানি থেকে পাওয়া লভ্যাংশ বাজেট ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ কার্যক্রমে অর্থায়ন করে দেশটি।
আরামকো জানায়, ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে তাদের কার্যক্রম থেকে নগদ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৭০ কোটি ডলার, যা আগের বছর ছিল ৩ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার। মূলধনী ব্যয় বাদ দিয়ে এ সময় অবাধ নগদ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯২০ কোটি ডলার, যা গত বছর ছিল ২ হাজার ২৮০ কোটি ডলার।
এ প্রান্তিকে মূলধনী ব্যয় ছিল ১ হাজার ২৫০ কোটি ডলার, যা গত বছরের ১ হাজার ৪১০ কোটি ডলারের তুলনায় কম। ২০২৫ সালে আরামকো ৫ হাজার ২০০ থেকে ৫ হাজার ৮০০ কোটি ডলার মূলধনী ব্যয়ের পরিকল্পনা করছে আরামকো। এর বিভিন্ন প্রকল্পের পাশাপাশি ৪০০ কোটি ডলার অর্থায়ন করবে।